জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) গত জুলাই-অগাস্টে হত্যাকান্ড নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী জুলাই-অগাস্টে প্রায় ১৪০০ জনের মতো নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে রাইফেল ও শটগানের গুলিতে। এই প্রতিবেদনে বলা হয় জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয় কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের আমন্ত্রণে ওএইচসিএইচআর বাংলাদেশে এসে এই তদন্ত করেন। বুধবার ,১২ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রের সাথে অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া প্রমাণগুলোর সমন্বয় করে ওএইচসিএইচআর এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে জানান ভলকার তুর্ক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সহিংস নিপীড়ন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণ ছিল। এই প্রতিবেদনের সময়কাল ধরা হয়েছে ১ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। কোটা বিরোধী আন্দোলনের শুরু ১৪ জুলাই ২০২৪। কেন ১লা জুলাই থেকে গণআন্দোলনে নিহত বা দমন-পীড়নের খতিয়ান শুরু করেছে সে সম্পর্কে কোন যোক্তিক ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে স্থান পায়নি। ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত সময় কাল বেছে নেওয়ার যোক্তিক কারণ ঘটনার পরবর্তী ঘটনা গুলোকে আমলে নেওয়া। যে কারণে ৫ আগস্টের পরবর্তী ১০ দিনকে তদন্তের প্রয়োজনে নেওয়া হয়েছে। ঠিক একই কারণে আগের ১৩ তিনি (১-১৩ জুলাই ) কে নেওয়ার খুব বেশি সমীচীন নয়। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার রয়েছে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে ২-৩ হাজার মানুষ খুন হয়েছেন। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন কল্পনা প্রসূত সংখ্যা প্রচারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
দুই
৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়েছেন। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন কিনা ? দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কিনা ? এই ইউনুস সরকারের বৈধতা আছে কিনা ? এই জাতীয় আলোচনা সমাজে ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে এই আলোচনা গুলো প্রান্তিক থেকে প্রান্তিকতর। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য শেখ হাসিনা সরকাকে দায়ী করার কোন যোক্তিকতা নেই। ৫-থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে রাজনৈতিক সহিসতার দায়দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের ঘাড়ে এসে পড়ে। আওয়ামীলীগ গত নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ৩৭০ জন কর্মী হত্যার তালিকা প্রকাশ করছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এই তালিকা জাতি সংঘের তথ্যানুসন্ধানী দলের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলেছে । আওয়ামীলীগ দলীয় সূত্র এই তালিকাকে প্রাথমিক তালিকা হিসেবে উল্ল্যেখ করেছে । সরকারের অসহযোগিতার কারণে নিহতদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের উপর বহুমুখী চাপ থাকায়, অনেক হত্যাকাণ্ডের খবর বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর জন্য বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে, সেই বিচারটা যেন হয় আইনের শাসনের প্রতি সত্যিকারের দায়বদ্ধতা থেকে। কিন্তু আমরা দেখেছি, বর্তমান অন্তর্বতী সরকার অতীতের বছরের সরকারগুলোর থেকে ভিন্ন নয় । ফলে বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। ৫ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলা হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচার কে করবে? আর এই সময়ের খুনের শিকার জাতিসংঘের রিপোর্টে পৃথক করে উল্ল্যেখ নেই।
ওএইচসিএইচআর এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট ভিত্তি আছে যে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সাবেক সরকার এবং এর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামো, আওয়ামী লীগের সহিংস গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে পদ্ধতিগতভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকশ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে মারাত্মক শারীরিক নিপীড়ন ও বলপ্রয়োগ, ব্যাপকহারে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন। এসব কারণে বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার জন্য জাতিসংঘ সেগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ওএইচসিএইচআর মনে করে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র অংশ এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতে, সমন্বয়ে ও নির্দেশনায় এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, ব্যক্তি নিরাপত্তা, নির্যাতন ও বাজে আচরণ থেকে মুক্ত থাকার অধিকার, ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদার অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকার, ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়ার অধিকারের মতো বিষয়গুলির উপর প্রভাব ফেলেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিজিবি, র্যাব, ডিজিএফআই, পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সরাসরি অপারেশন বিষয়ে আদেশ ও অন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যা তাদেরকে বিক্ষোভকারী ও অন্যান্য বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িয়ে ফেলেছিল। এর মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বিচারে গ্রেপতারের মতো ঘটনাগুলো ছিল। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের ৯৫ জন সদস্যের নাম এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল তার বিস্তারিত বিবরণ ওএইচসিএইচআর-কে সরবরাহ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ভয় দেখাতে এবং সম্ভবত বেআইনি বলপ্রয়োগের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছিল। বিশেষ করে র্যাবের কালো রঙের হেলিকপ্টার থেকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৮ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায়, যেমন মিরপুর, মহাখালী, ধানমন্ডি, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, শাহবাগ, বসুন্ধরা, গাজীপুর, ও যাত্রাবাড়ীতে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাইফেল বা শটগান দিয়ে গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। র্যাব তাদের প্রতিবেদনে জানায়, তারা হেলিকপ্টার থেকে ৭৩৮টি কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং ১৯০টি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। তবে রাইফেল বা শটগান দিয়ে গুলি ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এই রিপোর্টে নারীদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি বিশেষ ভাবে উল্ল্যেখ করা হয়েছে। “বিশেষত শুরুর দিকে বিক্ষোভের সম্মুখসারিতে থাকা নারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মারাত্মকভাবে আক্রমণ করেছে। নারীরা যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ছিল লিঙ্গ-ভিত্তিক শারীরিক সহিংসতা ও ধর্ষণের হুমকি। কয়েকটি ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।”রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর দ্বারা শিশুরা টার্গেট কিলিং এর শিকার হয়েছে। এছাড়া অমানবিক পরিবেশে আটক, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর আচরণের শিকার হয়েছে।
চার
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে ইউনুস সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১৫ জানুয়ারি প্রকাশ করেছে। গেজেটে শহীদদের সংখ্যা ৮৩৪ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় শহীদ হওয়ার তারিখ ও স্থান উল্লেখ করা হয়নি। এই রিপোর্ট বলা হয়েছে “as many as 1,400 people may have been killed” । ইংরেজি এই বাক্য দিয়ে নিশ্চিত ভাবে ১৪০০ জন খুন হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বুঝানো হয়নি। বিবিসি বাংলা জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে উদৃতি করে লিখেছে “ওএইচসিএইচআরের অনুমান, বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মিলিটারি রাইফেল এবং প্রাণঘাতি মেটাল প্যালেটস লোড করা শটগানে নিহত হয়েছেন। এই ধরনের শটগান সাধারণত বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে আজীবনের জন্য কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।” সরকারী গেজেট পরেও কেন ওএইচসিএইচআরকে অনুমানের ভিত্তিতে শহীদের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হলো, তা থেকে যাবে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে- নিহতের সংখ্যা ১৪০০। এই সংখ্যা সরকার পতনের পরবর্তী ১০দিন সহ। প্রতিবেদনটির গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পেতো যদি দেখানো হতো- সরকার পতনের আগে কতোজন নিহত, সরকার পতনের পরে কতোজন নিহত হয়েছিলেন ? ৮ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার পতনের পর দুদিনে নিহতের সংখ্যা ২৩২। জাতিসংঘ প্রতিবেদনে নিহতদের শ্রেনীবিভাগ করলে স্বচ্ছতা আরো স্পষ্ট হতে পারতো । ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার হত্যাকান্ড ঘটায়নি এই রকম দাবী করা দলান্ধ লোকজনের পক্ষেই সম্ভব। অপর দিকে আরেক পক্ষেই ৫ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্টের এবং এখন পর্যন্ত চলমান হত্যাকান্ডগুলোর জন্য কে দায়ী এই কথা জাতিসংঘের রিপোর্ট বেমালুম চেপে গেছে।
এই রিপোর্ট নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘকে মহিমানিত্ব করে এই রিপোর্টকে আইনের উর্ধে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত। তিনি জানান, জাতিসংঘের তদন্তকারীরা প্রসিকিউশনের সাথে কথা বলেননি, বরং তারা অপরাধী এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছেন। এই প্রতিবেদনটি অকাট্য দলিল হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ব্যবহার করা যাবে এবং তা ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। আইনি যুক্তিতর্কে এই প্রতিবেদন খুব বেশি শক্ত ভাবে দাঁড়াতে পারবে না। এই প্রতিবেদনে সঙ্গত কারণে বেশির ভাগ বক্তব্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের বিপক্ষে এসেছে। তবে উভয় পক্ষকে অসস্তিতে ফেলতে পারে ‘ অকাট্য ‘ যুক্তি শিথিল হয়ে যেতে পারে।
এই প্রতিবেদনের ২১১ থেকে ২৪২ মোট ৩২ টি বিন্দু রেখা – পয়েন্ট খুব বেশি আলোচিত হতে দেখা যাচ্ছে না। এই পয়েন্ট গুলো আওয়ামী লীগ, আইনশৃংখলা বাহিনী, বিভিন্ন ধর্মীয় ও নৃতাত্বিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভয়াবহ রকম প্রতিশোধমুলক সহিংসতার শিকারের কথা উল্ল্যেখ রয়েছে। পয়েন্ট ২২০- এ আওয়ামী লীগ সমর্থক নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার তথ্য রয়েছে। অন্ততঃ একজন নারী দ্বিতীয় দফায় সহিংসতার শিকার হবার সময় ধর্ষিত হওয়ার কথা উল্ল্যেখ রয়েছে । পয়েন্ট ২৪০ এ জাতিসংঘ স্বীকার করেছে- আন্তরিক চেষ্টা থাকা স্বত্বেও তারা এই ভিক্টিমদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেনি। জাতিসংঘের মতো কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার হুমকির কারণে নির্যাতিতার সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে উল্ল্যেখ করেছে। প্রতিবেদনের ভাষায় “ Safety concerns and the difficulty of accessing remote areas where victims were unwilling or unable to come forward due to fear “
পয়েন্ট ২২২ – জাতিসংঘ তদন্ত দল বলছে- প্রতিশোধমুলক হত্যা বিশেষ করে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ হত্যার বিষয়ে তারা তাদের নিজদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ তাদের ১৪৪ জন নিহত কর্মীর তালিকা দিলেও তদন্ত দল সশরীরে সেসব যাচাই করতে পারেনি। কেনো পারেনি? কী আটকেছিলো তাদেরকে?
পয়েন্ট ২৬২ তে ধর্মীয় সংখ্যা লঘু, নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় না আনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
“Many perpetrators of revenge violence and abuses against distinct religious and indigenous groups apparently continue to enjoy
impunity.” should not be subject to blanket exclusion from arrest or prosecution.প্রতিশোধমুলক সহিংসতা এবং ধর্মীয় ও নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীকে নির্যাতনকারীরা দায়মুক্তি উপভোগ করছে। এই বর্তমান সরকারের প্রদত্ত দায়মুক্তির সমালোচনা করে বলেছে- should not be subject to blanket exclusion from arrest or prosecution.
বাংলাদেশের আইনের শাসনের উপর খুব দেশি আস্থাশীল নয়। যার কারণে শেখ হাসিনা বিচারের সাথে সরাসরি জাতিসংঘ প্রতিবেদন মত প্রকাশ করেছে- বিগত সরকারের বিরুদ্ধে “মানবতা বিরোধী অপরাধ”- এর বিচার হতে পারে যা একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। বর্তমান সরকার যদি আন্তর্জাতিক মান, নিরপেক্ষতা ইত্যাদি বজায় রাখে তাহলে উক্ত বিষয়ে সহযোগীতা করতে প্রস্তুতজাতি সংঘ ।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন কোন পক্ষেরই নিরংকুশ স্বস্তির নয় । শব্দ ও বাক্যের আড়ালে জাতিসংঘ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কথা বলেছে।
১. চার মাসে ৩৭০ কর্মী খুন, তালিকা আওয়ামী লীগের। ০৫ নভেম্বর ২০২৪। আনন্দবাজার পত্রিকা।
২. জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ জন- ওএইচসিএইচআর। বিবিসি বাংলা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
৩. জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এর শহীদদের গেজেট প্রকাশ। প্রথম আলো। ১৬ জানুয়ারি ২০২৫।
৪.জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান -৮৩৪ শহীদের গেজেট। সমকাল। ১৭ জানুয়ারি ২০২৫।
৫. জাতিসংঘের প্রতিবেদন – ক্ষমতায় থাকতে নৃশংস পদক্ষেপ নিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার। প্রথম আলো। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
৬. জাতিসংঘের প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে অকাট্য দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে: চিফ প্রসিকিউটর। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। প্রথম আলো।