শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

অনলাইন ক্লাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ? — নীতি নির্ধারণে নতুন প্রশ্ন

সমসমাজ শিক্ষা ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইনে ক্লাস চাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণ অনলাইনে গেলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা থাকলেও আংশিকভাবে অনলাইন ও সশরীর ক্লাস চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে মহানগর এলাকার স্কুলগুলোতে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস পরিচালনা করে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে পাঠদান চালুর পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে, যা শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের যুক্তিতে অনলাইন ক্লাস চালুর এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একটি সাধারণ হিসাব বলছে, যেখানে একটি শ্রেণিকক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি ফ্যান ও ২টি লাইট—মোট ৬টি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামেই ক্লাস চালানো সম্ভব, সেখানে একই শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইন ক্লাস করলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফ্যান ও লাইট প্রয়োজন হয়। ফলে ৫০ জনের জন্য ফ্যান ৫০টি ও লাইট ৫০টি—মোট ১০০টি ডিভাইস চালু হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ওয়াইফাই রাউটার, মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জ এবং অনেক ক্ষেত্রে এসির ব্যবহার। অর্থাৎ কেন্দ্রীয়ভাবে সীমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিবর্তে বিচ্ছিন্নভাবে বহুগুণ বেশি বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। অনেকের ধারণা, স্কুল খোলা থাকলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বাড়ে, কিন্তু বাস্তবে দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে, গণপরিবহন বা স্বল্প ব্যয়ের যানবাহনে যাতায়াত করে। অল্প কিছু পরিবারের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সারাদেশে অনলাইন নির্ভরতা বাড়ানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বরং অনলাইন ক্লাস চালু হলে মোবাইল, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের চাহিদা বাড়বে, যা পরিবারগুলোর ওপর নতুন আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বড় ক্ষেত্র হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাণিজ্যিক ভবন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি এসি যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তা একাধিক ফ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এসব খাতে নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে তুলনামূলক বেশি সাশ্রয় সম্ভব।

সব মিলিয়ে, অনলাইন ক্লাস চালু করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে—এমন ধারণা অনেকাংশেই সরলীকৃত। বরং সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে বড় ধরনের পরিবর্তনের আগে বিষয়টি আরও বৈজ্ঞানিক, বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


একই ঘরনার সংবাদ

error: Content is protected !!
error: Content is protected !!