লন্ডনের বাঙালি – বাংলাভাষী অধ্যুষিত এলাকার একটি স্টেশনের নাম হোয়াইটচ্যাপ। পূর্ব লন্ডনের এই এলাকার জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই বাংলাভাষী। জনপ্রিয় ব্রিক লেন-সহ এই এলাকার রাস্তায় ও দোকানে বাংলা সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। বেশ কিছু হাসপাতাল ও লাইব্রেরিতেও বাংলায় বিজ্ঞপ্তি থাকে। কিন্তু মেট্রো স্টেশনে বাংলা ভাষার ব্যবহার এই প্রথম। শুধু নামই নয়, স্টেশনের প্রবেশ পথে বাংলায় লেখা হয়েছে— য়াইটচ্যাপেল স্টেশনে আপনাকে স্বাগত। হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনের নাম বাংলা হরফে লেখার প্রধান উদ্যোক্তা হচ্ছেন লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেট বরোর মেয়র জন বিগস। পশ্চিম লন্ডনের একটি স্টেশন হচ্ছে সাউথ হল [ Southall ] । এই স্টেশনের নাম ইংরেজির পাশাপাশি ভারতীয় পাঞ্জাবি -গুরুমুখী বর্ণমালায় লেখা। সাউথ হল প্রথম স্টেশন যেখানে ইংরেজির পাশাপাশি অন্য ভাষায় স্টেশনের নাম লেখা। এই ধারাবাহিকতায় হোয়াইটচ্যাপ স্টেশনের নাম বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ পাঞ্জাবি ভাষা ভারতের পাঞ্জাব ও পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ব্যাবহৃত হয়। কিন্তু দুই অংশে পৃথক বর্ণমালায় লেখা হয়ে থাকে পাঞ্জাবি ভাষা । ভারতীয় অংশে গুরুমুখী – দেব নাগরী বর্ণমালা এবং পাকিস্তানের অংশে শাহমুখী – আরবি – পার্শী বর্ণমালায় লেখা হয়ে থাকে। এই বিভাজন কয়েক শত বছরের পুরানা।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লোয়ি [ Rupert Lowe ] বাংলায় নাম লেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় নাম রাখার বিরুদ্ধে কথা বলেন ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লোয়ি । রুপার্ট লোয়ি এর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। ইলন মাস্ক এর সমর্থন বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইলন মাস্ক, ইউরোপের কিছু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছেন, বিশেষ করে X (প্রাক্তন টুইটার) প্ল্যাটফর্মের মালিক হিসেবে। ব্রিটেন – জার্মানি সহ ইইউ এর রাজনীতিকে প্রভাবান্বিত করার জন্য নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। মাস্কের ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্য অনেকের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তাকে অন্যান্য দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র তার মতামত প্রকাশ করার কারণে। কিন্তু, আধুনিক যোগাযোগের যুগে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং বাকস্বাধীনতার মধ্যে সীমা কোথায়? এটি এমন একটি প্রশ্ন, যা ইউরোপের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।
অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ছিল। তবে, ডিজিটাল যুগে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল এবং গ্রুপ চ্যাটগুলো আমাদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই প্রবেশযোগ্য। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে ব্যক্তিদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ হতে পারে। ভাষার প্রতিবন্ধকতাও এখন সহজে পার করা যায়, কারণ অনুবাদ পাওয়া যায় এক ক্লিকে। নতুন এআই টুলসের মাধ্যমে, ভিডিওর অডিও ডাবিংও এখন কয়েক মিনিটের ব্যাপার। এখন মানুষ শুধু পড়তে নয়, প্রায় অবিলম্বে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে যা কিছু হচ্ছে, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। আধুনিক যোগাযোগের অনেক সুবিধা কোন দেশের আইন ভঙ্গ না করেই বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইলন মাস্ক এই সুযোগ নিয়ে ইউরোপে আমেরিকার দেশে দেশের রাজনীতিতে নাক গলাচ্ছেন।