জাসদ বহুধা ভাগে বিভক্ত। যুদ্ধত্তোর বাংলাদেশে প্রতিবাদী শক্তি হিসেবে জাসদের জন্ম হয়েছিল। ১৯৮০ থেকে জাসদের ভাঙ্গনের শুরু। ১৯৯৭ সালে জাসদের বিভিন্ন গ্ৰুপ এক হয়ে একটা ‘ঐক্য ‘ জাসদ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই সময় আওয়ামীলীগের সরকারে আ স ম রব মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে এই ঐক্য দীর্ঘ দিন স্থায়ী হয়নি। আ স ম রব ছিটকে পড়লেন ‘ঐক্য ‘ জাসদ থেকে। হাসানুল হক ইনু আওয়ামীলীগের সহযোগী হিসাবে মন্ত্রী ছিলেন দীর্ঘ কাল। আওয়ামীলীগের শেষ দিন পর্যন্ত ১৪ দলের নেতা হিসাবে ছিলেন। হাসানুল হক ইনুর জাসদ ভেঙে তৈরী হয় আরেক জাসদ। এই জাসদ নামের বিভ্রাট নামের আগে বাংলাদেশ জুড়ে দেয়। এই দল গুলির রাজনীতি আওয়ামীলীগ বা বিএনপির সমান্তরালে পা ফেলা। জাসদ রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। নতুন করে জাসদের জেগে উঠার কোন সম্ভবনা নেই। তবুও আশাবাদীদের ঐক্যের প্রচেষ্টা চলছে।
২২ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে এক মতবিনিময় সভা খুলনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ জাসদ নেতা এম এ আউয়াল। প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার ফারাহ খান তার বক্তৃতায় বলেন, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাসদই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী দল, যা গণতন্ত্র রক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৩ বছর পরও আদর্শিক কারণে নয়, ব্যক্তিগত কারণে দলটি বিভক্ত হয়েছে, তাই জাসদের কর্মীদের একত্রিত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন ফ্যাসিস্ট শাসনের বিপরীতে জাসদের ঐক্য অপরিহার্য। বিভিন্ন গ্রুপের কর্মীদের একটি প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে এবং ১৯৭২ সালের আদর্শকে বর্তমান সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে দেশের জনগণের চাহিদা পূরণ করতে হবে। ফারাহ খান জাসদ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় বিভিন্ন জাসদ গ্রুপের নেতারা ঐক্যের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং খুলনা বিভাগ থেকে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
আ স ম রব এরশাদের সহযোগী ছিলেন। হাসিনার মন্ত্রী ছিলেন। পরে জাসদ ভাঙ্গনের কারণে আ স ম রব ক্ষমতার বলায় থেকে ছিটকে পড়েন। হাসানুল হক হাসিনার মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও হাসিনার ক্ষমতার বলে থেকে ছিটে পড়েও ১৪ দলের সাথে ছিলেন। বাংলাদেশ জাসদ হাসিনার সমর্থক ছিল। পড়ে জাসদ -ইনুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৪ দলে টিকতে পারেনি। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সাথে পক্ষ পরিবর্তন করে। বর্তমানে ইউনুস পন্থী ভূমিকায়। জাসদের কোন রাজনীতি নেই। এই দলের কোন ঐক্য হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই। ১৯৭২ সাল জাসদের সাথে যুক্তদের সকলের বয়স ৭০ এর কোঠায়। অতীত আবেগ ও নস্টালজিয়ায় বিভিন্ন সময় জাসদ নেতা কর্মীরা ঐক্যের চেষ্টা করেন। এই জাতীয় প্রচেষ্টার মধ্যে আন্তরিকতা আছে , আবেগ আছে কিন্তু রাজনীতি নেই।