শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর অনুপস্থিতি: ইতিহাস, বিতর্ক ও বাস্তবতার পুনর্পাঠ

অপু সারোয়ার
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

এক
মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু ‘পোষা বিতর্ক’ প্রচলিত আছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে এসব বিতর্কও নতুন করে সামনে আসে। বাহ্যিকভাবে এগুলোকে অনেক সময় ‘সত্য অনুসন্ধান’ বলা হলেও, কিছু ক্ষেত্রে তা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ও ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টায় রূপ নেয়। কখনও কখনও অযৌক্তিক ভারতবিদ্বেষী বা সাম্প্রদায়িক মনোভাবও এসব আলোচনায় প্রভাব ফেলে। মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি হলো—জেনারেল ওসমানীকে পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি বহুবার আলোচনায় এসেছে; কখনও ইতিহাস অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে, আবার কখনও রাজনৈতিক বিতর্কের উপাদান হিসেবে।
সম্প্রতি ইউনুস সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ফারুকী দম্পতিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সুবিধাভোগের অভিযোগ ছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে তারা বিভিন্নভাবে সুবিধা পেয়েছেন—এমন আলোচনা জনপরিসরে বহুবার এসেছে। আবার শেখ হাসিনার পতনের পর তারা প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতায় অবস্থান নেন। ইউনুস সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আলোচনায় আসে। একই সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আইনি সুরক্ষা, ক্ষমতার প্রভাব এবং প্রশাসনিক দায়মুক্তি নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ফারুকীর বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। কেউ কেউ মনে করেন, সমসাময়িক বিতর্ক থেকে দৃষ্টি সরাতেই ইতিহাসকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হতে পারে। এর আগেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের কারণে তাঁর সমালোচনা হয়েছিল।
কেন জেনারেল ওসমানী আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না—এ বিষয়ে যেসব তথ্য পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই তৃতীয় পক্ষের স্মৃতিচারণ বা বর্ণনা। ফলে ঘটনাটি ঘিরে নানা ব্যাখ্যা, অনুমান ও মতভেদ তৈরি হয়েছে। ইতিহাস শুধু ঘটনাপঞ্জি নয়; এটি মানুষের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিরও অংশ। স্মৃতির যেমন আলো আছে, তেমনি আছে সীমাবদ্ধতাও। কিছু স্মৃতি মানুষকে গর্বিত করে, আবার কিছু স্মৃতি অস্বস্তি তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যাখ্যা বদলায়, রাজনৈতিক অবস্থানও সেই স্মৃতিকে নতুন অর্থ দেয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সবার অভিজ্ঞতাও এক ছিল না। একজন কৃষক যুদ্ধ করেছিলেন নিজের মাটি রক্ষার জন্য, একজন ছাত্র স্বাধীন ভবিষ্যতের স্বপ্নে, একজন শ্রমিক শোষণের বিরুদ্ধে, আবার কেউ রাষ্ট্র ও দায়িত্ববোধ থেকে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। তাই সবার যুদ্ধ এক হলেও, সেই যুদ্ধকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন। জেনারেল ওসমানীর ১৬ ডিসেম্বরের অনুপস্থিতি নিয়ে যেসব বক্তব্য প্রচলিত আছে, সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থান, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সময়ের বাস্তবতার আলোকে বিচার করা জরুরি। সেই প্রেক্ষাপট বাদ দিলে ইতিহাস সহজেই একরৈখিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। তখন জটিল বাস্তবতা আড়াল হয় এবং বিতর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে।
দুই
মুহাম্মদ আতাউল গনী ওসমানী (১৯১৮–১৯৮৪) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রথম সেনাপ্রধান এবং প্রথম চার-তারকা বিশিষ্ট জেনারেল হিসেবেও তিনি স্মরণীয়। তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। যুদ্ধ চলাকালে তাঁর নামের আগে ‘জেনারেল’ পদবি যুক্ত হয়। তবে এই পদবি কার্যকর ছিল তুলনামূলক স্বল্প সময়—মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এবং স্বাধীন বাংলাদেশের আরও প্রায় তিন মাস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব নেন। তবে যুদ্ধ পরিচালনার সময় তাঁর সঙ্গে তরুণ সামরিক কর্মকর্তাদের নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এর পেছনে প্রজন্মগত পার্থক্য, সামরিক কৌশল নিয়ে ভিন্ন মত এবং নেতৃত্বের ধরন নিয়ে অসন্তোষ কাজ করেছিল। পদত্যাগের কথাও ভেবেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হিসেবে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে বিতর্কের জন্ম দেয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমদের আহ্বানে ওসমানী রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যেহেতু মোশতাক সরকার সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাই অনেকের কাছে ওসমানীর এই সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ । বিষয়টি আরও আলোচিত হয় এই কারণে যে, তিনি একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি এমন এক সরকারের অংশ হন, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শক্তির সহায়তায়। ফলে তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং সেই বিতর্ক আজও ইতিহাস আলোচনায় টিকে আছে।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়েও ওসমানীর সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ গেরিলা পদ্ধতিতে হবে, নাকি প্রথাগত সামরিক কৌশলে—এ প্রশ্নে তিনি দ্বিধায় ছিলেন বলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উল্লেখ পাওয়া যায়। ওসমানী মূলত একটি নিয়মিত সামরিক কাঠামোর পক্ষে ছিলেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা ছিল অনেক বেশি গেরিলানির্ভর। প্রবাসী সরকার, অধিকাংশ সামরিক নেতৃত্ব এবং ভারতও তখন গেরিলা যুদ্ধকৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছিল। অন্যদিকে, ওসমানীর উদ্যোগেই মুক্তিযুদ্ধকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করা হয়, যা যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে গেরিলা ও প্রথাগত—দুই ধরনের কৌশল একসঙ্গে চলায় মাঝে মাঝে সমন্বয়গত সমস্যা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিতেন এবং সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে কম যেতেন। এসব কারণে সেক্টর পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। মতপার্থক্যের কারণে তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। তবে এসব সংকট রাজনৈতিকভাবে সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাজউদ্দীন আহমদ। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সামরিক নেতৃত্ব গঠনের প্রশ্নেও ওসমানীর আপত্তি ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ বাহিনী স্বাধীন কমান্ড কাঠামোর মধ্যেই যুদ্ধ পরিচালনা করুক। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে যৌথ কমান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কে খন্দকারের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তে ওসমানী সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং একপর্যায়ে পদত্যাগের কথাও তুলেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি লিখিত পদত্যাগপত্র দেননি।
মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে তাঁকে রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত নানা চাপের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। যে কোনো যুদ্ধের কৌশল ও সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে আলোচনা-সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। পেছনে ফিরে তাকালে প্রায় সব যুদ্ধেই মনে হতে পারে, কিছু সিদ্ধান্ত আরও ভালো বা ভিন্নভাবে নেওয়া যেত। এটি বিশ্বজুড়েই ইতিহাস বিশ্লেষণের সাধারণ প্রবণতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টরভিত্তিক কাঠামো বা প্রথাগত বাহিনীর আদলে সংগঠনের দায় এককভাবে জেনারেল ওসমানীর ওপর চাপানো তাই পক্ষপাতমূলক। এসব সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকও ছিল এবং প্রবাসী সরকার, ভারতীয় সহায়তা ও যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতির সমন্বয়েই নেওয়া হয়েছিল।
তিন
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তাঁর বই একাত্তরের রণাঙ্গন: অকথিত কিছু কথা–তে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর ওসমানী যখন মুজিবনগর সরকারের সদর দফতরে ফেরেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকা উচিত ছিল।
এ প্রসঙ্গে ওসমানী কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেন। প্রথমত, তিনি বলেন যে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত কখন চূড়ান্ত হয়েছে, তা তিনি আগে থেকে জানতেন না। দ্বিতীয়ত, তাঁর বক্তব্য ছিল—যুদ্ধটি যৌথ কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হলেও অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। সেই কারণে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানেও ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান জগজিৎ সিং অরোরা অংশ নেন স্যাম মানেকশ–এর প্রতিনিধি হিসেবে।
ওসমানীর মতে, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো রাষ্ট্রের নিয়মিত সেনাপ্রধান ছিলেন না এবং তখনও বাংলাদেশ জেনেভা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র ছিল না। ফলে আন্তর্জাতিক সামরিক প্রটোকল অনুযায়ী পাকিস্তানি বাহিনীর তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের প্রশ্ন ওঠে না।
তিনি আরও বলেন, যদি স্যাম মানেকশ নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন, তাহলে তাঁর সেখানে যাওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি হতে পারত। কিন্তু অরোরার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত হওয়া তাঁর সামরিক মর্যাদা ও প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
ওসমানী আরও ব্যাখ্যা করেন, আত্মসমর্পণ শুধু অস্ত্র ফেলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের বাধ্যবাধকতাও জড়িত। আত্মসমর্পণকারী সৈন্যদের নিরাপত্তা, খাদ্য, আবাসন ও মানবিক আচরণের দায়িত্ব নিতে হয়। কিন্তু তখনও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো, নিয়মিত সেনাবাহিনী বা বন্দি ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। তাঁর যুক্তি ছিল, সদ্য স্বাধীন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পক্ষে ৯০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের দায়িত্ব নেওয়া বাস্তবসম্মত ছিল না। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে ওসমানী বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, তাঁর অনুপস্থিতি ব্যক্তিগত অভিমান বা অবহেলার কারণে নয়; বরং সামরিক প্রটোকল, আন্তর্জাতিক বাস্তবতা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
নজরুল ইসলামের এই বর্ণনা ইতিহাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি মুক্তিযুদ্ধের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা ও সে সময়ের মানসিক টানাপোড়েন সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে এটিও মনে রাখা জরুরি যে, এসব বক্তব্য মূলত স্মৃতিনির্ভর ও শ্রুতিনির্ভর; এগুলো ওসমানীর নিজের লিখিত ভাষ্য নয়। তাই ইতিহাস বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা কঠিন।
লেখক ও সাংবাদিক এম আর আক্তার মুকুল তাঁর আমি বিজয় দেখেছি বইতে লিখেছেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে কলকাতার থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সচিবালয়ে খবর আসে যে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে সম্মত হয়েছে এবং সেদিন বিকেলেই আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর বর্ণনায় দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তখন কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ওসমানীকে দেখে তিনি জানতে চান, তিনি ঢাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে শুনেছেন কি না। এরপর দুজন আলাদা হয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন। মুকুল দাবি করেন, কথোপকথনের শেষদিকে তিনি ওসমানীর মুখে শুনেছিলেন—“নো নো প্রাইম মিনিস্টার, মাই লাইফ ইজ ভেরি প্রেশাস, আই কান্ট গো।”
অন্যদিকে, তাজউদ্দীন আহমদের একান্ত সচিব ফারুক আজিজ খান তাঁর বসন্ত ১৯৭১ বইতে ভিন্ন ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর মতে, দুপুরে খবর পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন। তখন জানা যায়, ওসমানী ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার উজ্জ্বল গুপ্ত ও লে. কর্নেল আবদুর রবের সঙ্গে হেলিকপ্টারে সিলেটের দিকে গেছেন। ফারুক আজিজ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তখন মন্তব্য করেছিলেন—“হাউ আনলাকি হি ইজ। সারাটা বছর তিনি নিজের অফিসে কাটালেন। আর আজ এমন দিনে তিনি এখানে নেই।” পরে সিদ্ধান্ত হয়, জেনারেল অরোরার সঙ্গে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
চার
জেনারেল ওসমানীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি নিয়ে যেমন নানা ব্যাখ্যা রয়েছে, তেমনি এ বিষয়ে ভিন্নধর্মী স্মৃতিচারণও পাওয়া যায়। বিশেষ করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্য এ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে।জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর সকালে তারা প্রথম জানতে পারেন যে সেদিনই ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হবে। খবরটি শোনার পর ওসমানী নীরব ও বিষণ্ণ ছিলেন। পরে শেখ কামাল তাঁকে অনুরোধ করেন, ওসমানী কখন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তা জানতে। জাফরুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানী বলেন, তিনি এখনও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাননি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যুদ্ধ পরিচালনায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি প্রবাসী সরকারের অধীন ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নির্দেশ ছাড়া ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চাননি।
এরপর তিনি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বর্ণনায় উল্লেখ আছে, ভারতীয় এম-৮ হেলিকপ্টারে যাত্রাপথে তাদের বহর হঠাৎ আক্রমণের মুখে পড়ে। হেলিকপ্টারের তেলের ট্যাংকে আঘাত লাগলে পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে ওঠে। সে সময় ওসমানী নিজে জাফরুল্লাহর জ্যাকেট নিয়ে ট্যাংকের ছিদ্র বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তবে এই ঘটনার বিবরণ নিয়েও মতভেদ রয়েছে। এ কে খন্দকার তাঁর স্মৃতিচারণে সিলেট সফরের তারিখ ভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ওই সফরকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন বলেও জানান। ফলে ওসমানীর অনুপস্থিতি নিয়ে যে ব্যাখ্যাগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো একরৈখিক নয়। বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অবস্থান ও স্মৃতির আলোকে ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই অধ্যায়টি এখনও আলোচনা ও বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে।
পাঁচ
মুহাম্মদ আতাউল গনী ওসমানীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক ও সন্দেহ রয়েছে। অনেকেই এটিকে ভারতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তবে এমন কোনো ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ গ্রহণ বা বর্জনের আগে যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অবশ্য এসব স্মৃতিচারণও অন্য সব ব্যক্তিগত স্মৃতির মতোই যাচাই-বাছাইয়ের দাবি রাখে।
সুজন সিং উবান, যিনি একাত্তরে ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার্স ফোর্সের প্রধান ছিলেন এবং বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনি এ ঘটনাকে একটি “নৈতিক ভুল” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন জ্যাকব ফারজ রাফায়েল জ্যাকব। তিনি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমানীর জন্য পাঠানো হেলিকপ্টার পথিমধ্যে গুলির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সময়মতো সেটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে ওসমানী অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেননি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন জে এন দীক্ষিত। তিনি লিখেছেন, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীকে উপস্থিত করাতে না পারা ভারতের একটি বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল। তাঁর মতে, ওসমানী যৌথবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিলেন এবং তাঁকে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অংশ করা হলে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অনেক ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারত।
দীক্ষিত আরও উল্লেখ করেন, সে সময় বাংলাদেশি রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যে ওসমানীকে বহনকারী হেলিকপ্টার ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত বা অন্য পথে পরিচালিত করা হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ কখনও প্রকাশ হয়নি।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, ওসমানীর অনুপস্থিতি নিয়ে একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে—সামরিক প্রটোকল, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি কিংবা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা। নিশ্চিত তথ্যের অভাবে এ ঘটনাকে সরলভাবে শুধু “ষড়যন্ত্র” বা শুধু “দুর্ঘটনা” বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে এটুকু স্পষ্ট যে, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর অনুপস্থিতি স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নের ইতিহাসে এক ধরনের অপূর্ণতা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
ছয়
বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার একটি বড় দুর্ভাগ্য হলো, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষ নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত স্মৃতিকথা লিখে যাননি। আবার যা কিছু লেখা হয়েছে, তারও বড় অংশ রাজনৈতিক অবস্থান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা পরবর্তী সময়ের দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। ফলে একই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা তৈরি হয়েছে, আর ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আজও বিতর্কের ভেতর রয়ে গেছে। এই কারণেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বুঝতে হলে শুধু একক স্মৃতিচারণ নয়; বরং বিভিন্ন দলিল, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, আন্তর্জাতিক নথি ও সমকালীন বিবরণ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। ইতিহাসকে কেবল আবেগ দিয়ে নয়, তথ্য, প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতার আলোকে বিচার করাই বেশি প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি হলো—১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি। তাঁকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি, নাকি তিনি নিজেই যাননি—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত উত্তর আজও মেলেনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এ বিষয়ে ওসমানীর নিজের কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ ও বর্ণনা মিলিয়ে যে চিত্রটি সামনে আসে, তাতে মনে হয়—সে সময়ের সমন্বয়হীনতা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধকালীন বাস্তবতার কারণেই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের জন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলোর একটিতে তাঁর অনুপস্থিতি আজও ইতিহাসের এক গভীর আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
জেনারেল ওসমানীর ১৬ ডিসেম্বরের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নিয়ে নজরুল ইসলাম, ফারুক আজিজ খান ও এম আর আখতার মুকুলের বক্তব্যে একটি মিল রয়েছে। তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওসমানী নিজ সিদ্ধান্তেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যাননি। তবে এসব স্মৃতিচারণে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য, ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা ও আবেগের ছাপও স্পষ্ট। বিশেষ করে এম আর আখতার মুকুলের বক্তব্যে ওসমানী–বিরোধী সুর তুলনামূলকভাবে বেশি তীক্ষ্ণ। তিনি লিখেছেন, ওসমানী নাকি তাজউদ্দীন আহমদকে বলেছিলেন, “No, no Prime Minister, my life is very precious, I can’t go।” অথচ মুকুল নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি পুরো কথোপকথন শোনেননি; কেবল শেষ অংশটুকু শুনেছিলেন। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। মুকুলের *আমি বিজয় দেখেছি* বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে, ওসমানীর মৃত্যুর এক বছর পরে। তিনি নিজেই লিখেছেন, বইটি লিখতে তাঁর পাঁচ বছর সময় লেগেছে। অর্থাৎ ঘটনাটি আরও যাচাই করা, ওসমানীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা ভিন্ন বয়ান মিলিয়ে দেখার সুযোগ তাঁর ছিল। কিন্তু সে ধরনের অনুসন্ধানের স্পষ্ট প্রমাণ বইয়ে খুব একটা দেখা যায় না।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছিল। তাঁর লেখায় উল্লেখ আছে, ওসমানী তাজউদ্দীন আহমদকে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছিলেন, “You sold the country, I will not be a party to it।” কিন্তু এখানেও পুরো কথোপকথনের প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত। জাফরুল্লাহ নিজেই বলেছেন, তিনি আগে ওসমানীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং পরে ওসমানী তাজউদ্দীনের কক্ষে যান। কিন্তু তিনি ওসমানীকে ঠিক কী বলেছিলেন, তা আর ব্যাখ্যা করেননি। ফলে ঘটনাটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট অস্পষ্টই থেকে যায়।  এ কে খন্দকার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তিনি ঘটনাস্থলের একেবারে কেন্দ্রে ছিলেন। ফলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বা অন্যদের স্মৃতিচারণ যাচাই করতে চাইলে, এ কে খন্দকারের মতো প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীর বক্তব্য আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।
সব মিলিয়ে মনে হয়, এম আর আখতার মুকুল বা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর লেখায় অনেক ক্ষেত্রে *confirmation bias* বা পূর্বধারণা অনুযায়ী তথ্য বেছে নেওয়ার প্রবণতা কাজ করেছে। অর্থাৎ, যে অংশ তাঁদের রাজনৈতিক বা মানসিক অবস্থানের সঙ্গে মিলেছে, সেটিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় এই প্রবণতা নতুন নয়। ফলে একই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন, কখনও পরস্পরবিরোধী বয়ান তৈরি হয়েছে।
তবু সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে একটি সত্য আজও অমলিন—বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, রক্ত, কান্না ও সাহসের বিনিময়ে। মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর গল্প নয়; এটি পুরো জাতির আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীর শারীরিক অনুপস্থিতি দিয়ে তাঁর অবদান, নেতৃত্ব বা ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। ইতিহাসের বিচার শেষ পর্যন্ত একটি মুহূর্ত দিয়ে নয়, পুরো সংগ্রাম ও অবদানের আলোকে করা উচিত।
——-
সহায়ক তথ্য সূত্র ও বই :
১. ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণে জেনারেল ওসমানী কেনো ছিলেন না, এ নিয়ে কোনো সিনেমা হয়েছে? দৈনিক ইত্তেফাক। ১৩ মে ২০২৬।
২. একাত্তরের রণাঙ্গন অকথিত কিছু কথা। নজরুল ইসলাম। পৃষ্ঠা ২৪২-২৪৬। অনুপম প্রকাশনী।
৩. ‘আমি বিজয় দেখেছি’- এম আর আক্তার মুকুল। পৃষ্টা ২৮৭ ।
৪. বসন্ত ১৯৭১ : মুজিবনগর সরকারের কেন্দ্র থেকে দেখা মুক্তিযোদ্ধ। পৃষ্টা ১৯৩। লেখক ফারুক আজিজ খান। অনুবাদক- আসজাদুল কিবরিয়া। প্রথমা প্রকাশন।
৫. এ কে খন্দকার- ১৯৭১: ভেতরে-বাইরে। প্রথমা প্রকাশন। পৃ. ১৯১-১৯৪। পৃ.২০৭-২১১ ।
৬. জাফরুল্লাহ চৌধুরী- মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি খণ্ড চিত্র, নতুন দিগন্ত, ষোড়শ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা এপ্রিল-জুন ২০১৮, পৃ. ৫৭ থেকে ৫৯ ।
৭. মেজর জেনারেল (অব.) এসএস উবান- ফ্যান্টমস অব চিটাগং: দ্য ফিফথ আর্মি ইন বাংলাদেশ। ঘাস ফুল নদী। পৃ. ১২০ ।
৮.লে. জেনারেল জেএফআর জ্যাকব- সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা: একটি জাতির জন্ম, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, পৃ. ১২১ ।
৯. জে এন দীক্ষিত- লিবারেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড: ইন্দো-বাংলাদেশ রিলেশন্স, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ১৯৯৯, পৃ. ১০৯ ।


একই ঘরনার সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!