রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

জাপানে জাতীয় পতাকা অবমাননা নিষিদ্ধ: নতুন আইন নিয়ে বিতর্ক

সমসমাজ ডেস্ক
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

জাপানের পার্লামেন্ট জাতীয় পতাকা “হিনোমারু “অবমাননার বিরুদ্ধে একটি নতুন আইন পাস করেছে। এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জাপানের নিজস্ব জাতীয় পতাকা অবমাননার জন্য ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি প্রকাশ্যে জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলে, পোড়ায়, কাদায় মাখায়, পায়ে মাড়ায়, নামিয়ে ফেলে বা অন্য কোনোভাবে এমনভাবে অবমাননা করে যাতে অন্যদের মধ্যে *চরম অস্বস্তি বা ঘৃণার অনুভূতি* সৃষ্টি হয়, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ *দুই বছরের কারাদণ্ড* অথবা প্রায় ১,২৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ব্যক্তিগত স্থানে পতাকা পুড়িয়ে বা কেটে সেই দৃশ্য লাইভস্ট্রিম বা ভিডিও আকারে প্রকাশ করলেও আইনটি প্রযোজ্য হবে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং তার ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এই আইনকে সমর্থন করে বলেছে, বিদেশি রাষ্ট্রের পতাকা অবমাননার জন্য জাপানে আগে থেকেই শাস্তির বিধান ছিল, কিন্তু নিজের দেশের পতাকার ক্ষেত্রে এমন আইন না থাকা একটি আইনি অসামঞ্জস্য ছিল। তাদের মতে, নতুন আইন জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান নিশ্চিত করবে।

আইনটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। *ডেমোক্রেটিক লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব জাপান*, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার আইনজীবী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতা এই আইনের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, **”চরম অস্বস্তি”** বা **”ঘৃণার অনুভূতি”** কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা আইনে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে আইনটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ, শিল্পকর্ম বা সরকারের সমালোচনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রায় ১৫০ জন জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক এই আইন পাস না করার আহ্বান জানিয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। তারা সতর্ক করে বলেন, এই আইন রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংসদীয় আলোচনায় আইনটির সীমা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। উদাহরণ হিসেবে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য জানতে চান, রাজনৈতিক সমাবেশে জাতীয় পতাকার ওপর ক্রস চিহ্ন আঁকা শাস্তিযোগ্য হবে কি না। জবাবে ক্ষমতাসীন দলের এক আইনপ্রণেতা বলেন, **”এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে”**, অর্থাৎ প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

আইনটিতে কিছু নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। *অ্যানিমে, মাঙ্গা, ভিডিও গেম, ডিজিটাল ছবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি পতাকার ছবি, চিত্রকর্মে ব্যবহৃত পতাকার প্রতীক এবং শিশুদের খাবারে ব্যবহৃত ছোট কাগজের পতাকা** এই আইনের আওতায় পড়বে না।

জাপানের জাতীয় পতাকা **হিনোমারু** দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশটির কিছু নাগরিক এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের কাছে এটি এখনও বিতর্কিত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ১৯৯৯ সালে হিনোমারুকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকার আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবুও এর ঐতিহাসিক ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। নতুন আইনটি জাপানে জাতীয় প্রতীক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।


একই ঘরনার সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!