শিরোনাম
ট্রাম্প শাসন : সংকটের বিহ্ববলতা ইউনুস শাসনামল ! ইউনুস নীতি ! গোলাপি বাস, হিজাব ও নারীর স্বাধীনতার চেকপোস্ট জাতিসংঘের রিপোর্ট: বাংলাদেশের উগ্রবাদ সংকট ১৫ আগস্ট: শেখ মুজিবর রহমান হত্যাকান্ড বিজ্ঞানের নামে দাবি, ধর্মের নামে ঢাল: গণমাধ্যমের দায়িত্ব কোথায়? সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু :শ্রমিকের জীবন, শিল্পের মুনাফা ফরহাদ মজহারের বক্তব্য: জুলাইয়ের ইতিহাস কি নতুন করে লিখতে হবে? ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’—শব্দের ঝলকানি, নাকি রাষ্ট্রনীতির বাস্তব পরীক্ষা ? শেখ হাসিনার শাসনের অবসান: গণঅভ্যুত্থান নাকি সামরিক হস্তক্ষেপ? দিল্লির মঞ্চে হাসিনা, ঢাকার ক্রোধ জুলাই ২৪ অভ্যুত্থান : শেখ হাসিনার পতন ও কালার রেভল্যুশনের প্রশ্ন
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

গোলাপি বাস, হিজাব ও নারীর স্বাধীনতার চেকপোস্ট

সমসমাজ প্রতিবেদক।
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

[ নারীদের নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আবারও ‘পিংক বাস’ চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার ১৩টি পথে ১৪টি বাস দিয়ে শুরু হলেও তিন মাসের মধ্যে ৫০টি বাস চালুর লক্ষ্য রয়েছে। নারী চালক ও কন্ডাক্টর, ই-টিকিট, সিসিটিভি ও ভেহিকেল ট্র্যাকিংয়ের মতো ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও যখন ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ টেকসই হয়নি, এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পিংক বাস কতটা নিয়মিত, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে পারবে? ]

নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হয়েছে। নারী চালকও আছেন। উদ্যোগটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশংসার দাবি রাখে। কারণ গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তাহীনতা বাস্তব। হয়রানি, অশালীন আচরণ, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ—এসব নারীর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার অংশ। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। নারীর নিরাপত্তার সমাধান কি নারীকে আলাদা করে দেওয়া?

আপত্তি নারী বাস চালু করার বিরুদ্ধে নয়। আপত্তি হলো, এটিকে যদি সমস্যার মূল সমাধান হিসেবে দেখা হয়। টিএসসির ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা টানিয়ে মেয়েদের আলাদা বসার জায়গা করা এবং নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু করা—দুটির মধ্যে একটি মৌলিক মিল আছে। দুটো ক্ষেত্রেই সমস্যার পরিবেশ বদলানোর বদলে সমস্যার শিকার মানুষকে আলাদা করে দেওয়ার সহজ পথ নেওয়া হয়। অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও কঠিন।

নারীকে নিরাপদ রাখতে হলে পুরুষের আচরণ বদলাতে হবে। গণপরিবহনকে নিরাপদ করতে হলে চালক ও সহকারীদের জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। যৌন হয়রানির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাস মালিক, চালক, পুলিশ—সবার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করতে হবে। নারীকে আলাদা বাসে তুলে দেওয়া সবচেয়ে সহজ সমাধান। কিন্তু সবচেয়ে টেকসই সমাধান নয়। বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীরা হয়রানির শিকার হন—এটি সত্য। কিন্তু আরেকটি সত্যও মনে রাখা দরকার। নারী-পুরুষের একসঙ্গে চলাচল এখনো আমাদের সমাজে মোটামুটি স্বাভাবিক। বাসে একজন নারী উঠলে অধিকাংশ পুরুষ তাকে ‘অন্য প্রজাতি’ হিসেবে দেখেন না। এখনো অনেক পুরুষ নারীকে সিট ছেড়ে দেন। একই বাসে নারী-পুরুষ পাশাপাশি বসে, দাঁড়িয়ে, গন্তব্যে যায়। এই স্বাভাবিক সহাবস্থানটি খুব মূল্যবান। রাষ্ট্রের কাজ হওয়া উচিত এটিকে আরও নিরাপদ করা। ভেঙে দেওয়া নয়।

কারণ আলাদা ব্যবস্থা একসময় আলাদা থাকার সামাজিক যুক্তিতে পরিণত হতে পারে। আজ বলা হবে, নারীদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা বাস আছে। কাল বলা হতে পারে, তাহলে নারী সাধারণ বাসে উঠছেন কেন? মেট্রোরেলে এমন মনোভাবের অভিযোগ ইতোমধ্যে শোনা গেছে। অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা একটি বিশেষ ব্যবস্থা একসময় নারীর সাধারণ গণপরিবহন ব্যবহারের বিরুদ্ধে যুক্তি হয়ে উঠতে পারে।

এটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

ধরা যাক, কোনো রুটে দশটি সাধারণ বাসের পাশাপাশি একটি নারী বাস চালু করা হলো। কোনো সময়ে নারী যাত্রী কম থাকলে নারী বাসটি অর্ধেক খালি চলবে। একই সময়ে সাধারণ বাসে নারী-পুরুষ সবাই ভিড় করছেন। তখন রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সেই প্রশ্ন থেকেই পরে তৈরি হতে পারে আরও বিপজ্জনক সামাজিক যুক্তি—“নারীদের জন্য তো আলাদা বাস আছেই। সাধারণ বাসে তাদের আসতে হবে কেন?” এখানেই পিংক বাসের সীমানা নির্ধারণ জরুরি।

পিংক বাস থাকতে পারে। কিন্তু পিংক বাস যেন সাধারণ বাস থেকে নারীদের বের করে দেওয়ার অজুহাত না হয়। সরকার চাইলে বেশি নারী যাত্রী চলাচল করেন—এমন রুটে সীমিতসংখ্যক নারী বাস রাখতে পারে। এটি একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে যৌক্তিক। কিন্তু একই সঙ্গে সাধারণ গণপরিবহনকে নিরাপদ করার কাজও চালাতে হবে। নারী বাস যেন মূল ব্যবস্থার বিকল্প না হয়ে যায়। বরং সরকারের উচিত আগে হিসাব করা—আগে যেসব নারী বাস চালু হয়েছিল, সেগুলো কেন টেকেনি? যাত্রী কম ছিল? পরিচালনায় সমস্যা ছিল? রুট ভুল ছিল? সময়সূচি কার্যকর ছিল না? নারী চালক ও কর্মী পাওয়া যায়নি? নাকি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় সেগুলো বন্ধ হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া নতুন বাস নামানো মূলত দৃশ্যমান একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বাস নামানো সহজ। একটি কার্যকর, নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন। তবে পিংক বাসের সবচেয়ে ইতিবাচক দিকটি বাস নয়—নারী চালক।

এখানেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সম্ভাবনা।

ইতোমধ্যে যেসব নারী চালকের সাক্ষাৎকার দেখা গেছে, তাদের অনেকেই যথেষ্ট প্রশিক্ষিত। কেউ কেউ ড্রাইভিং স্কুলের প্রশিক্ষক ছিলেন। বড় রুটে গাড়ি চালানোর জন্যও তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের কথাবার্তায় আত্মবিশ্বাস আছে। একজন বলেছেন, তার স্বামী তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। কথাটি শুনে ভালো লাগার কারণও আছে। নারীর অগ্রগতি মানেই পুরুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ—এই ধারণাটিও ভুল। একজন পুরুষও একজন নারীর শক্তির উৎস হতে পারেন। আরেক নারী চালককে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, মানুষের কটু কথাকে ভয় পান কি না, তিনি খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছেন—মানুষের কথা শুনলে এতদিন ড্রাইভিং প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারতেন না।

এই উত্তরটিই যথেষ্ট।

মানুষ কথা বলবে। নারী কাজ করবে।

সড়কে নারী চালকদের জন্য আরেকটি বাস্তব সমস্যা অবশ্য অপেক্ষা করছে—পুরুষতান্ত্রিক দাদাগিরি। যে দেশে অনেক চালক নিয়ম মানাকে দুর্বলতা এবং ওভারটেক করাকে পৌরুষের প্রমাণ মনে করেন, সেখানে নারী চালকের কাজ সহজ হবে না। পিংক বাসের প্রথম দিনেই সাধারণ বাসের ধাক্কার ঘটনা সেই বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু নারী চালকের জন্য রাস্তা বন্ধ করার যুক্তি এখান থেকে আসে না। বরং আসে উল্টো দাবি—পুরুষ চালকদের রাস্তার শৃঙ্খলা শেখাতে হবে। এই জায়গায় এসে পিংক বাসের সঙ্গে আরেকটি বিষয় জড়িয়ে যাচ্ছে—ধর্মীয় রক্ষণশীলতা। নারী চালকদের নিয়ে ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে। নারীর গাড়ি চালানো নিয়ে আপত্তি উঠছে। কেউ কেউ নারী চালকদের পোশাক নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এখানে কথা পরিষ্কার হওয়া দরকার।

ইসলামকে আক্রমণ করাও এই আলোচনার বিষয় নয়। কিন্তু নারীর নাগরিক অধিকারকে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর ব্যাখ্যার অধীন করে দেওয়ার বিরোধিতা করা ইসলামোফোবিয়া নয়। একজন নারী গাড়ি চালাবেন কি না, সেটি তার যোগ্যতা ও আইনের প্রশ্ন। তিনি কী পোশাক পরবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত অধিকার। হিজাব পরা যদি একজন নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ হয়, সেটিকে সম্মান করতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্র যদি কোনো নির্দিষ্ট পোশাককে নারীর পেশাগত গ্রহণযোগ্যতার শর্ত বানায়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত পছন্দ থাকে না। তখন রাষ্ট্র নিজেই একটি সামাজিক বার্তা দেয়—নারী জনপরিসরে প্রবেশ করতে পারবে, তবে একটি নির্দিষ্ট রক্ষণশীল ছাঁচ মেনে।

এই চেকপোস্টটি কেন দরকার?

নারীর স্বাধীনতার পথে ধর্মীয় অনুমোদনের এমন কোনো বাধ্যতামূলক ফটক থাকা উচিত নয়। একজন নারী হিজাব পরবেন। আরেকজন পরবেন না। একজন সালোয়ার-কামিজ পরবেন। আরেকজন অন্য পোশাক পরবেন। রাষ্ট্রের কাজ পোশাকের পাহারাদার হওয়া নয়। রাষ্ট্রের কাজ হলো সবাইকে সমান নাগরিক অধিকার দেওয়া। এই জায়গাতেই ‘সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না’ ধরনের নীতি বিপজ্জনক। একদিকে সরকার নারীকে কর্মক্ষেত্রে আনবে, অন্যদিকে রক্ষণশীল সামাজিক চাপকে প্রশ্রয় দেবে। নারীকে বলা হবে—এসো, কিন্তু আমাদের শর্ত মেনে এসো। এটি নারী ক্ষমতায়ন নয়। এটি শর্তসাপেক্ষ ক্ষমতায়ন। টিএসসির পর্দা, পিংক বাস এবং নারী চালকের পোশাক—বিষয়গুলো তাই আলাদা আলাদা ঘটনা মনে হলেও একটি বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। রাষ্ট্র নারীর জন্য নিরাপত্তা তৈরি করবে, নাকি নারীর চারপাশে আলাদা দেয়াল তুলবে?

দুটির মধ্যে পার্থক্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আজ আলাদা বাস। কাল আলাদা শিক্ষা। পরশু আলাদা কর্মক্ষেত্র। তারপর আলাদা সামাজিক পরিসর। প্রতিটি পদক্ষেপ আলাদাভাবে হয়তো ‘নিরাপত্তা’ বা ‘শালীনতা’র নামে যুক্তিসঙ্গত মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো একসঙ্গে হলে ফল দাঁড়ায় নারীকে জনপরিসর থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করা। রক্ষণশীল রাজনীতি সাধারণত এভাবেই এগোয়। একদিনে দেয়াল ওঠে না। ছোট ছোট ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ দিয়ে আলাদা থাকার সংস্কৃতি তৈরি হয়। পরে সেই আলাদা ব্যবস্থাই অধিকার সীমিত করার যুক্তি হয়ে দাঁড়ায়। তাই পিংক বাসকে নিয়ে অবস্থানও স্পষ্ট হওয়া দরকার।বাসটি চলুক। নারী চালকরা আরও বেশি গাড়ি চালান। নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ুক। নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ বাড়ুক।

কিন্তু একই সঙ্গে সরকারকে ঘোষণা করতে হবে—পিংক বাস কোনো নারী-নির্বাসন প্রকল্প নয়। এটি সাধারণ গণপরিবহনের বিকল্প নয়। কোনো নারী সাধারণ বাসে উঠলে তাকে কেউ বলতে পারবে না, “আপনার জন্য তো আলাদা বাস আছে।” কারণ পিংক বাসের সাফল্য শুধু কতটি বাস রাস্তায় নামল, তা দিয়ে মাপা যাবে না। বরং দেখতে হবে, সাধারণ বাসও নারী-নিরাপদ হলো কি না। একজন নারী যেন পিংক বাসে যেমন নিরাপদ থাকেন, তেমনি সাধারণ বাসেও থাকেন। মেট্রোরেলে যেমন স্বাভাবিকভাবে উঠতে পারেন, তেমনি রাতের বাসেও উঠতে পারেন। পুরুষের পাশে বসতে পারেন। পুরুষের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন। কাজ শেষে একা বাড়ি ফিরতে পারেন।

এটাই আসল লক্ষ্য।

পিংক বাস তাই শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়। এটি রাষ্ট্রের জন্য একটি পরীক্ষা।

রাষ্ট্র কি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, নাকি নারীকে আলাদা করে নিরাপত্তার হিসাব মেলাতে চায়?

আর নারী চালকদের জন্য এটি আরেকটি পরীক্ষা নয়। তারা ইতোমধ্যে উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।

তাদের সামনে যত ফতোয়া আসুক, যত কটু কথা আসুক, যত সড়ক-দাদাগিরি আসুক—তারা গাড়ি চালাবেন।

নারীরা কারও অনুমতির অপেক্ষায় নেই।

তারা চালাবে। কাজ করবে। উপার্জন করবে। রাস্তায় থাকবে। সাধারণ বাসে উঠবে। পিংক বাসেও উঠবে। হিজাব পরলে পরবে, না পরলে পরবে না। নারীর পৃথিবী কোনো পুরুষের অনুমতিতে চলে না। তবে পিংক বাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে সেদিন, যেদিন পিংক বাস আর বিশেষ কিছু থাকবে না। যেদিন সাধারণ বাসই নিরাপদ হবে। যেদিন নারী চালককে দেখে কেউ অবাক হবে না। যেদিন নারী যাত্রীকে দেখে কেউ বলবে না—“আপনার জন্য তো আলাদা বাস আছে।” সেদিনই পিংক বাস তার সবচেয়ে বড় কাজটি শেষ করবে।


More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!