শিরোনাম
ট্রাম্প শাসন : সংকটের বিহ্ববলতা ইউনুস শাসনামল ! ইউনুস নীতি ! চে গুয়েভারা: কিংবদন্তি, ও বাস্তবতা  চট্টগ্রাম বন্দর: বিদেশি পুঁজির স্বার্থ, অস্বচ্ছ চুক্তি ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির প্রতিবাদ ও বিবৃতি: এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি চট্টগ্রাম বন্দর : গোপনীয়তা, বিদেশি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবাদ দমনের রাজনীতি শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী : বই নিষিদ্ধের অধিকার কার? বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয়: ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রমূলে বাংলাদেশ সংবিধান: বিতর্কের তিন শিকড় জাসদ অফিসে হামলা ও গ্রেফতার : ২৮৯ জন আটক টাকায় আপস, গরুতে সহায়তা—বিচার কোথায়? বারিধারায় মেহেদীর মৃত্যু: টাকার জোরে কি এবারও পার পেয়ে যাবে কেউ?
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির প্রতিবাদ ও বিবৃতি: এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির বিবৃতি
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

——————————————————————–
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা না করা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা, ইউরোপ থেকে এয়ারবাস কেনা, বন্দরের শ্রমিক, ব্যবহারকারী, বিশেষজ্ঞদের দাবি ও দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর – মানুষের মনে এই প্রশ্নের উদ্রেক করেছে যে সাম্রাজ্যবাদী এসকল দেশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কিনা।
—————————————————————-
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা ও এর টার্মিনালগুলো বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা কনসোর্টিয়ামের কাছে ইজারা/হস্তান্তর করার উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা ও সমালোচনা করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি থেকে একাধিক বার্তা ও বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়েছে। আজ বিকালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠানস্থলে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে।
শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি অপারেটরদের পরিচালনায় লাভজনক অবস্থায় থাকার পরও বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরো দ্রুতগতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সহ দেশের বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহ তখন এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের চাপে সরকার পিছিয়ে আসে। পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা বিএনপি সরকার সমস্ত যুক্তি প্রতিবাদ উপেক্ষা করে আজ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরে স্পষ্ট হয়েছে যে, সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর চাপের কাছে ইতিমধ্যেই সরকার নতি স্বীকার করেছে। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা না করা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা, ইউরোপ থেকে এয়ারবাস কেনা, বন্দরের শ্রমিক, ব্যবহারকারী, বিশেষজ্ঞদের দাবি ও দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর – মানুষের মনে এই প্রশ্নের উদ্রেক করেছে যে সাম্রাজ্যবাদী এসকল দেশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কিনা।
আজ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মিলনায়তনের বাইরে বিক্ষোভে পুলিশের হামলায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, নেতা মনিরুজ্জামান মিলন, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনীষা চক্রবর্তী, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসিফ জামানসহ অনেকে আহত হন।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির মনে করে, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর (যা বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে) বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো বা ‘কৌশলগত সম্পদ’ মুনাফালোভী গোষ্ঠী বা বিদেশি স্বার্থের কাছে হস্তান্তর করা দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হলো। ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতির জন্য এই সরকার দায়ী থাকবে।
ক্ষমতায় যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দেশের স্বার্থ অগ্রাহ্য করে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর স্বার্থ নগ্নভাবে রক্ষা করার এমন নজির আমরা ইতিপূর্বে দেখিনি। যে সরকারই ক্ষমতায় যাক না কেন, সাম্রাজ্যবাদের সাথে তাদের সম্পর্ক একইরকম। আজ বিরোধী দলে যারা আছেন, তারাও এই প্রশ্নে সরকারের সাথে একমত। আজ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটসহ বামপন্থী দলগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সংসদে কিংবা সংসদের বাইরে তথাকথিত এই বড় দলগুলোর এ বিষয়ে কোন অবস্থান নেই। আমরা সরকারের পাশাপাশি তাদের ভূমিকারও নিন্দা জানাই।
৮ অক্টোবর ২০২৬


More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!